FORGOT YOUR DETAILS?

শেখ মুজিব আমার পিতা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবাকে নিয়ে নিজের লেখা ” শেখ মুজিব আমার পিতা” বইটি পড়লাম । অনেক অজানা তথ্য বইটিতে আছে সেখানে এক জায়গায়, তিনি যখন দেশে এসে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে প্রথম ঢুকেন তার একটি বর্ণনা দেন নিজের ভাষায় ।
কতটা নির্মম ছিল ১৫ই আগস্টের সেই হত্যাযজ্ঞ । ভাবতেই গা শিউরে উঠে । বইটি পড়তে পারেন অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন ।

বই এর কিছু অংশ

” বাড়িটি যখন ১২ জুন, ১৯৮১ সালে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাত্তার সাহেবের নির্দেশে খুলে দেওয়া হল তখন বাড়িটির গাছপালা বেড়ে জঙ্গল হয়ে আছে। মাকড়সার জাল, ঝুল, ধুলােবালি, পােকামাকড়ে ভরা। ঘরগুলি অন্ধকারাচ্ছন্ন। গুলির আঘাতে লাইব্রেরি ঘরের দরজা ভাঙা, বইয়ের আলমারিতে গুলি, কাচ ভাঙা, বইগুলি বুলেটবিদ্ধ, কয়েকটা বইয়ের ভিতরে এখনও বুলেট রয়েছে। একটা বই, নাম শ্রদ্ধাঞ্জলি’। বইটির উপরে কবি নজরুলের ছবি। বইটির ভিতরে একখানা আলগা ছবি, একজন মুক্তিযােদ্ধার বুলেটের আঘাতে বইটি ক্ষতিবিক্ষত।মুক্তিযােদ্ধার ছবিটির বুকের উপর গুলি। ঠিক ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে এ বাড়িতে যে আক্রমণ হয় তা হল ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশােধ গ্রহণ। এ বইটির দিকে তাকালে যেন সব পরিষ্কার হয়ে যায়।

কেন ওরা হত্যা করল বঙ্গবন্ধুকে? মনে হল যেন পরাজয়ের প্রতিশােধ নিল। মায়ের ঘরের আলমারির সব জিনিস বিছানার উপর স্তুপ করা। ঘরের মেঝেতে বড় বড় গুলির আঘাত। দোতলায় মার শােবার ঘর। এই ঘরেই খুকী, রােজী, জামাল, রাসেলকে গুলি করেছে। মা দরজায় দাঁড়িয়েছিলেন, মাকে ওখানে গুলি করেছে। আব্বার বিছানার পাশে টেবিলটায় রক্তের ছােপ এখনও শুকিয়ে আছে। পূর্ব দিকের দেয়াল জুড়ে রক্তের দাগ। ছাদের উপর মাথার ঘিলু গােছা গােছা চুলসহ লেগে আছে। এই ঘরেই হত্যাকারীরা ঐ নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তারপর দুহাতে ঘর লুটপাট করেছে। দোতলার সিঁড়িতে এখনও রক্তের দাগ রয়েছে। দোতলায় জামালের ঘরের বাথরুমের বড় আয়নাটায় গুলির আঘাতে বড় একটা গর্ত হয়ে আছে।

আয়নাটা ভেঙেছে, দোতলার বসার ঘরের পশ্চিম পাশের ঘরটা প্যান্ট্রি ঘরের মতাে, ওখানে ইস্ত্রি করার টেবিল। পাশে ডিনার ওয়াগান, কাচের ও রূপার জিনিসপত্র। ভরা, উত্তরদিকে একটা সেলফ যেখানে মায়ের হাতের আচারের বৈয়ামগুলি। এখনও সেই আচারের ঘ্রাণ রয়েছে। একটা টিনে কিছু আতপ চাল ছিল, সাত বছর পরও চাল তেমনই আছে। মিটসেপে সব জিনিসপত্র। পাশে একটা আলমারির ভিতরে তােয়ালে ও বিছানার চাদর থাকত, ঠিক সেভাবেই আছে। শুধু ঘরের মধ্যে মাটিতে স্থূপীকৃত কাপড় আর তুলা। তুলা ও কাপড়চোপড়ে রক্তে ছােপ ছােপ দাগ রয়েছে। এই ঘরে কেন এত রক্তমাখা কাপড়? জানি না সেদিন কি ঘটেছিল? ঐ খুনিরাই বলতে পারে যাদের এতটুকু হাত কাঁপেনি এভাবে গুলি চালাতে। মার বিছানা ও বালিশ গুলিতে ঝাঁঝরা। জামালের ঘরের বিছানা ও বালিশ গুলির আঘাতে আঘাতে ফুটো হয়ে আছে। অনেক দুর্লভ ছবি, জরুরি কাগজপত্র, দলিল, ব্যাংকের চেক বই সব খুনিরা নিয়ে গেছে। ছবিগুলি নষ্ট করেছে, ছিড়েছে, পরবর্তী সময়ে পােকায় কেটেছে।”

TOP