FORGOT YOUR DETAILS?

সাইয়েদ নিসার আলী তিতুমীর

মোশাররফ হোসেন খান

তিতুমীর নামের গােপন রহস্য।

খুব ছােটোকালে নিসার আলী ছিলেন খুব হালকা পাতলা। একদিকে ছিলেন রােগাটে, অন্যদিকে ছিলেন দারুণ দুর্বল। রােগ ব্যাধিতে সব সময় ভুগতেন তিনি। মেজাজটাও তাই হয়ে উঠেছিল বেজায় খিটখিটে। শরীর সুস্থ না থাকলে পৃথিবীর কোনাে কিছুই ভালাে লাগেনা। নিসার আলীর অবস্থাও হয়েছিল তাই। খাওয়ায় রুচি নেই। খেলায় মন নেই। সারাদিন কেবল ঘ্যানর ঘ্যানর। কান্না শুধু কান্না। তিনি ছিলেন পরিবারের সবার কাছে চোখের মণি। কলিজার টুকরাে। আদর যত্ন আর সেবার কোনাে কমতি নেই। তবুও সুস্থ হয়না নিসার আলীর শরীরস্বাস্থ্য। তাকে নিয়ে মহাভাবনায় পড়লেন পিতা হাসান আলী। আর মা রােকাইয়া তাে ছেলের জন্যে ভাবতে ভাবতে প্রায় নাওয়া খাওয়াই ছেড়ে দিলেন। কিন্তু দাদী ? তিনিও ভাবেন। ভাবেন অতি আদরের নিসারকে নিয়ে। ভেবে কি উপায় আছে? নিসার তাে কেবল একটি ছেলেই শুধু নন। তিনি একটি পরিবারের ভবিষ্যত । একটি পরিবারের জ্বলজ্বলে পিদিম। দাদী ভাবেন, যে করে হােক নিসারকে সুস্থ করে তুলতে হবে। দাদী হেকিম ডাকেন। কবিরাজ ডাকেন। ওষুধের পর ওষুধ চলে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়না। তবুও হতাশ হন না দাদী। নিরাশ হন না আল্লাহর অপার রহমত থেকে।

চেষ্টা চালাতে থাকেন তিনি। জ্ঞানী-গুণীদের পরামর্শ নেন দাদী। পরামর্শ নেন হেকিম এবং কবিরাজের। তারা বলেন, গাছগাছালির ছাল, পাতা আর লতা-গুল্মের ভেতর রয়েছে নিসার আলীর জন্যে প্রকৃত ওষুধ। গাছগাছালির ছাল এবং লতাপাতার ভেতর রয়েছে অনেক গুণ। রয়েছে অনেক শক্তি। দাদী এবার নজর দিলেন সেই দিকে। হাত বাড়ালেন বােজ ওষুধের দিকে। সারাদিন তিনি এইসব যােগাড়ের চেষ্টায় থাকেন। প্রয়ােজনীয় লতাপাতা যেখানেই পাওয়া যায় সেখান থেকেই দাদী সংগ্রহ করান লােকজন দিয়ে। তারপর সেই লতাপাতা আর গাছের ছাল বেটে তার রস খাওয়ান প্রাণপ্রিয় নিসার আলীকে। গাছের লতাপাতার রস যে তিতা, সে কথা সবাই জানে। নিসার আলীও তা জানেন। তবুও তিনি কেমন মজা করে সেই তিতা রস ঢক ঢক করে গিলে ফেলেন। অনায়াসে। পান করে যান সেইসব। দাদী বাটি বাটি তিতা রস নিসার আলীর মুখের সামনে তুলে ধরেন। আর নিসার আলী মধু পান করার মতাে তা নিমিষেই সাবাড় করে দেন। দাদী তাে অবাক। কি আশ্চর্যের কথা ! যে তিতা ওষুধ অন্যান্য শিশুদের নাক মুখ চেপে ধরে খাওয়াতে হয়, তা কিনা নিসার আলী তৃপ্তির সাথেই পান করে! পড়শিরাও কাণ্ড দেখে হতবাক। দাদী নিসার আলীকে আদরে আদরে ভরে দেন। ভরে দেন নিসার আলীর হৃদয়-মন। দাদীর হৃদয় উজাড় করা আদর স্নেহে দুকূল ছাপিয়ে ওঠে নিসার আলীর মনের বিশাল সমুদ্র। পড়শিরা তাকিয়ে থাকেন দাদীর দিকে। তাকিয়ে থাকেন নিসার আলীর দিকে। তাদের চোখে মুখে বিস্ময়ভরা জিজ্ঞাসার তুফান।

সেই তুফান ভেঙ্গে হেসে ওঠেন ধবধবে জোছনার মতাে মহীয়সী দাদী। আদর করে আরও কাছে টেনে নেন কলিজার মানিক নিসার আলীকে। সােহাগ করতে করতে বলেন— এ আমার সােনার টুকরাে। আমার বংশের প্রদীপ। আমার আদরের ‘তিতামীর। কোনাে রকম কান্নাকাটি আর বায়না ছাড়া নিসার আলী দাদীর দেয়া সেই তিতা ওষুধ পান করতেন বলে দাদী তাঁকে সােহাগ করে ডাকলেন ‘তিতামীর বলে। ব্যাস! আর যায় কোথায়! সেই থেকেই শুরু। দাদীর সেই সােহাগের ডাক থেকেই বাড়ির অন্যান্যরা তাকে মাঝে মাঝে ডাকতে থাকেন তিতামীর বলে। সেটিও ছিল আদর আর সােহাগে ভরা ডাক। কিন্তু তারপর। তারপর আস্তে আস্তে, ধীরে ধীরে সেই তিতামীর নামটি ছড়িয়ে পড়লাে পরিবারের বাইরে। পড়শির মধ্যে। গ্রামের আর দশজনের মাঝে । এভাবেই তিতামীর’ ক্রমশ হয়ে গেলেন আর একটু বদলে ‘তিতুমীর’। কালে কালে তিতুমীর নামটি এতােই জনপ্রিয় এবং পরিচিত হয়ে উঠলাে যে তাঁর আসল নামটিও ঢাকা পড়ে গেল অনেকটা কুয়াশার ভেতর। সাইয়েদ নিসার আলী নামটি এখনাে সাধারণ মানুষ তেমন করে জানেন না। এই নামটি তাে এতােদিনে অনেকে ভুলতেই বসেছে। অধিকাংশ মানুষই তাঁকে ‘তিতুমীর’ বলেই জানে। সাইয়েদ নিসার আলীকে আর কজনইবা চেনে? তবু এটাই সঠিক। এটাই তার প্রকৃত নাম। তার প্রকৃত নাম সাইয়েদ নিসার আলী।

বইটিতে পাবেন ।

কে ছিলেন এই তিতুমীর ? কিভাবে বেড়ে উঠলেন । কিভাবে আন্দোলন করেছিলেন তার সম্পর্কে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিটেইলস বইটিতে খুবই সাবলীল ভাষায় লিখেছেন লেখক । তার সম্পর্কে জানতে চাইলে পড়তে পারেন ।

TOP